
: জনপ্রশাসনে বদলি ও পদায়নে ‘ভাগ-বাঁটোয়ারা’ চলছে এবং উপদেষ্টা পরিষদের ভেতর থেকে বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে সহায়তা করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে এ অভিযোগ জানায় দলটি।
বৈঠক শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “জনপ্রশাসনে বদলি-পদায়নগুলো নিরপেক্ষতা বা যোগ্যতার ভিত্তিতে হচ্ছে না। বিভিন্ন বড় রাজনৈতিক দল নিজেদের মধ্যে এসপি, ডিসি ভাগ-বাঁটোয়ারা করছে। এমনকি উপদেষ্টা পরিষদের ভেতর থেকেও এ বিষয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই যেসব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাত, অদক্ষতা বা দুর্নীতির অভিযোগ আছে, তাঁদের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
গতকাল বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে সরকারকে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানায়। আজকের বৈঠকে এনসিপির নেতারা সেই প্রসঙ্গেও মত দেন।
বিএনপির দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি জুলাই সনদের আওতাধীন। সেটি নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হয়েছে। গণভোটের আগে কোনোভাবেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন সম্ভব নয়। কেউ যদি এখন এ দাবি তোলে, সেটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
উপদেষ্টা পরিষদ পুরো পরিবর্তনের পক্ষে নয় এনসিপি। নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা মনে করি, উপদেষ্টা পরিষদের নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করলেই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। তবে পুরো পরিষদ পরিবর্তনের সুযোগ নেই।”
ছাত্র উপদেষ্টাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তাঁরা কোনো দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারে আছেন। যদি তাঁদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বলা হয়, তাহলে অন্যান্য উপদেষ্টার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।”
তিনি জানান, উপদেষ্টা পরিষদে যাঁদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা প্রশাসনিক ভাগ-বাঁটোয়ারার সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে, তাঁদের নাম প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে জুলাই গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক আদেশ জারি ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও আলোচনা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি, জুলাই সনদের কাগুজে মূল্যে নয়- বাস্তবায়নে নিশ্চয়তা চাই। সাংবিধানিক আদেশ জারি করতে হবে অধ্যাপক ইউনূসকেই, প্রেসিডেন্টের নয়।”
নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপি। দলের আহ্বায়ক বলেন, “নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। কিছু দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব ও কিছু দলের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কমিশন পুনর্গঠন জরুরি।”
এ ছাড়া বৈঠকে বিসিএস নন-ক্যাডার বিধিমালা, নির্বাচনে নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নাহিদ ইসলাম জানান, “প্রধান উপদেষ্টা আমাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।




