আস্থায় বাংলা

প্রচলিত ধারায় নয়, সত্যই লক্ষ্য

কৃষি

শেষ সময়েও পেঁয়াজের দাম কম থাকায় লোকসানে চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, পুঠিয়া : পেঁয়াজের মৌসুম শেষের পথে, তবে বাজারে এখনো ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। উৎপাদন ব্যয় তুলতে না পারায় লোকসানের মুখে পড়েছেন পুঠিয়াসহ এই অঞ্চলের পেঁয়াজ চাষিরা।

পেয়াঁজ চাষি আব্দুল মজিদ জানান, জমির খাজনাসহ এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ করতে খরচ হয় ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা। মৌসুমে কাচা এক কেজি পেঁয়াজ উৎপাদন করতে খরচ পড়েছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা। অথচ বাজারে সেই পেঁয়াজ উঠাকালে বিক্রি করতে হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়। অনেক জায়গায় পাইকাররা দাম দিচ্ছেন আরও কম। ফলে প্রতি কেজিতে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়ছেন চাষিরা।

কিন্তু পেঁয়াজের মৌসুম শেষ সময়ে এসে ৪০ কেজি পেঁয়াজ শুকিয়ে ও পচে ২৫ থেকে ২৮ কেজি হচ্ছে। তার উপর আবার ৪২ কেজিতে মণ। সেই হিসাবে এখন বাজার দর ১৬০০শ থেকে ১৮০০শ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে কাচা পেঁয়াজ ও শুকনো পেঁয়াজের দাম হিসাবে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

চাষি আব্দুল মমিন বলেন, “এই মৌসুমে ২ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম। এবছর তেমন ভালো ফলন হয়নি আবার দামও পাচ্ছি না। মৌসুমে কাচা পেঁয়াজ বিক্রি করেও খরচ উঠেনি। মৌসুমের শেষ সময়ে দাম ভালো হবে বলে আশা করেছিলাম কিন্তু দাম উঠলো না। শুকনো পেঁয়াজ তারপরেও দাম কম এর উপর আবার আড়ৎদাররা ওজনে ২ কেজি বেশি নিচ্ছেন। এই সময় এসে ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা মণ দরে দাম থাকলেও কিছু লাভবান হতাম। এমন দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে সার ওষুদের দাম এখনও দিতে পারিনি। এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। তারা সরকারের কাছে দ্রুত বাজার হস্তক্ষেপ ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টারা বলছেন, পেঁয়াজ আমদানি নিয়ন্ত্রণ না করা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাই এই সংকটের অন্যতম কারণ। সময়মতো পরিকল্পনা ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত না হলে কৃষকরা ভবিষ্যতে এই ফসল চাষে অনাগ্রহী হয়ে পড়বেন, যা দেশীয় কৃষি উৎপাদনের জন্য বড় হুমকি।

এ বিষয়ে রাজশাহীর কৃষি উপ পরিচালক উম্মে সালমা বলেন, বর্তমানে যে দাম আছে এতে খুব একটা কম না। আমাদের অঞ্চলে উৎপাদন বেশি যার কারণে দাম একটু কম। পেঁয়াজ পচনশীল সেই হিসাবে আরেকটু দাম থাকলে কৃষক বেশি লাভবান হত। বর্তমানে আমরা পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ইয়ার ফ্লো মেশিন দিয়ে একটি ঘর তৈরি করে দিয়েছি। এ পদ্ধতি পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখলে পেঁয়াজের ওজন ও পচন অনেক কম হয়।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *