সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, দেশের দ্রুজ সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেওয়া তাঁর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সম্প্রতি সিরিয়ার সুয়েইদা প্রদেশে দ্রুজ ও বেদুইন গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘাতের পর এ বিষয়ে সংকট তৈরি হয়।
এরই জেরে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ও প্রেসিডেন্টের দপ্তরের কাছে সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। দ্রুজদের রক্ষায় এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে তেল আবিব। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা আমাদের দ্রুজ ভাইদের রক্ষা করছি এবং সিরিয়ার সরকারসমর্থিত সন্ত্রাসী দলগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
সিরিয়ার সরকারি বাহিনী বলেছে, তারা সুয়েইদা থেকে ‘বেআইনি গোষ্ঠীদের’ সরিয়ে দিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়েছে। তবে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, দ্রুজ নেতাদের সঙ্গে এক সমঝোতার ভিত্তিতে এখন অঞ্চলটি থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, গত রোববার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১৬ জন নিহত হয়েছেন। তবে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৩৫০ জনের বেশি। এর মধ্যে ৭৯ জন দ্রুজ যোদ্ধা ও ৫৫ জন সাধারণ নাগরিক। নিহতদের মধ্যে ২৭ জনকে সরকারপন্থি বাহিনী সরাসরি গুলি করে হত্যা করেছে বলেও জানিয়েছে তারা। এ ছাড়া, সরকারি বাহিনীর ১৮৯ জন সদস্য ও ১৮ জন বেদুইন গোষ্ঠীর যোদ্ধাও নিহত হয়েছেন। সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র বলছে, মৃতের সংখ্যা ৩০০ জনের কাছাকাছি।
জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়দার সাবেক শাখা হায়াত তাহরির আল-শামের সাবেক নেতা, বর্তমান প্রেসিডেন্ট শারার প্রতি সিরিয়ার দ্রুজ সম্প্রদায় ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মধ্যে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট শারা বলেছেন, ‘দ্রুজরা আমাদের জাতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুদ্ধকে ভয় করি না। তবে সিরিয়ার স্বার্থকে আমরা বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসের ঊর্ধ্বে রেখেছি।’ সরকার জানিয়েছে, এখন থেকে সুয়েইদার নিরাপত্তার দায়িত্ব ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।
এদিকে দ্রুজদের সংঘাতে ইসরায়েল-সিরিয়ার উত্তেজনার পারদ চড়েছে। ইসরায়েল বলছে, তারা সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সন্ত্রাসী ঘাঁটি গড়ে ওঠার সুযোগ দেবে না। তারা জানিয়েছে, দামেস্কে সিরিয়ার সামরিক সদরদপ্তর, প্রেসিডেন্টের দপ্তরের কাছে সামরিক ঘাঁটি, সুয়েইদার পথে থাকা সাঁজোয়া যান, অস্ত্র গুদাম ও ফায়ারিং পোস্টে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, সীমান্ত পার হয়ে ইসরায়েলি দ্রুজ সম্প্রদায়ের কয়েকশ সদস্য সিরিয়ায় প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
এমন পরিস্থিতিতে সংঘাত শেষ করার বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, ‘সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে আমরা এমন কিছু পদক্ষেপে একমত হয়েছি, যা এই ভয়াবহ পরিস্থিতি শেষ করবে। আমরা আশা করি, সবাই তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।’




