
নিজস্ব প্রতিবেদক, পুঠিয়া : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ৩ নম্বর বানেশ্বর ইউনিয়নে ‘বিএনপির প্রধান কার্যালয়’ নামে একটি অফিস উদ্বোধন ঘিরে দলে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক, ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি। স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কোনো অনুমোদন বা অবগতিস্বরূপ ছাড়াই বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ওই অফিস উদ্বোধন করা হয়।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হযরত আলী সরকার বলেন, “এই উদ্বোধনের বিষয়ে আমাকে বুধবার রাত ১০টার পর মতিউর রহমান মতি ফোনে জানিয়েছিলেন, যা ছিল সম্পূর্ণ অসম্মানজনক ও প্রহসনের মতো। আমাদের অনুমতি ছাড়াই একটি কার্যালয় খোলা হয়েছে, যা বেআইনি ও দলীয় শৃঙ্খলার চরম লঙ্ঘন।” তিনি আরও বলেন, “এই অফিসের নামে যদি কোনো চাঁদাবাজি বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তার দায় ইউনিয়ন বিএনপি নেবে না।”
সদস্য সচিব আব্দুল মজিদ বলেন, “আমরা কেউই এ ব্যাপারে জানতাম না। আমাদের মতামত বা সম্মতি ছাড়া দলীয় অফিস খোলা রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ কাজ।”
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কার্যালয় উদ্বোধনে যাঁরা জড়িত ছিলেন, তারা অধিকাংশই বিএনপির কোনো সাংগঠনিক পদে নেই। নাম উঠে এসেছে বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতির, যিনি অফিস উদ্বোধনের নেতৃত্বে ছিলেন। অথচ তিনি বিএনপির কোনো পদেই নেই।
এ বিষয়ে মতিউর রহমান মতি দাবি করেন, “প্রয়াত এমপি নাদিম মোস্তফার ছেলের উদ্যোগে অফিসটি করা হয়েছে। দুই দিন আগে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে ফোনে জানানো হয়েছিল। কেন তারা আসেননি, সেটি আমি জানি না।”
পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “বাংলাদেশে বিএনপির ‘প্রধান কার্যালয়’ বলে কোনো ইউনিটিক কার্যালয় নেই। অনুমোদন ছাড়াই বানেশ্বর ইউনিয়নে এই নামে অফিস চালু করায় দলের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।”
স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, অনেক বছর ধরেই একটি স্থানে নেতাকর্মীরা মিলিত হয়ে মতবিনিময় করতেন, তবে সেটিকে ‘প্রধান কার্যালয়’ ঘোষণা দেওয়া বা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা অনুমতি ছাড়া অবৈধ ও দৃষ্টিকটু।
এ নিয়ে বানেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং দ্রুত দলীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি স্থানীয় বিএনপির নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতার প্রকাশ। ফলে মাঠপর্যায়ে সংগঠনের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। এ বিষয়ে এখনো কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




