
নিজস্ব প্রতিবেদক : চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের স্মরণে ৫ আগস্ট সারাদেশে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক দিন উপলক্ষে পবা উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বিজয় র্যালি।
সেই লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার খড়খড়ি বাইপাস বাজার থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারও বাইপাস বাজারে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে অংশ নেন পবা উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, কৃষকদল, শ্রমিকদলসহ বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. রায়হানুল আলম রায়হান বলেন, “আজকের এই বিজয় র্যালি নতুন এক রাজনৈতিক ঐক্যের প্রতীক, যা ধরে রাখা আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণের যে স্বপ্ন ও চেতনা নিয়ে চব্বিশের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান হয়েছিল, তা পূরণে এখনও অনেক পথ বাকি। আমাদের প্রথম কাজ হলো— বিএনপি’র ৩১ দফা রূপরেখা বাস্তবায়ন করা। পাশাপাশি পতিত আওয়ামী লীগ সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় আসার যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা। সেই সঙ্গে জুলাই-আগস্টে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে জাগ্রত হওয়া জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া।”
তিনি আরও বলেন,“আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, যেখানে থাকবে না শোষণ, দুর্নীতি, বৈষম্য ও দুঃশাসন। কিন্তু আজও অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত। শহীদদের বিচার কার্যকর হয়নি, শাসন ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আসেনি। তাই এই র্যালি শুধু স্মরণ নয়, তা ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বানও।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, এই বিজয় র্যালি তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এছাড়াও তিনি অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং শহীদদের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানান।
সমাবেশে পবা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয় পতাকা, ব্যানার ও স্লোগান নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। র্যালি ও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
এসময় পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন— পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বড়গাছী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহদাত হোসেন হাবিব, পারিলা ইউনিয়নের প্রবীণ বিএনপি নেতা খায়রুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন স্বপন, হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিন হোসেন, ছাত্রদল নেতা মোস্তাক আহমেদ, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম এবং উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসদার হোসেন। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।




