
: বিএনপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী একটি জোট গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। শুধুমাত্র ধর্মভিত্তিক দল নয়, মধ্যপন্থী কিছু দলও এই জোটের অংশ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এনসিপিকে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার গুঞ্জন চলছে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের সভা-সমাবেশকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ না বলে সংস্কারকেন্দ্রিক জোট হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
জোট গঠিত হলে তারা নির্বাচনে ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করছে। অন্যদিকে বিএনপি এই সমালোচনা করেছে যে, পিআর (প্রতিনিধি ভোট) পদ্ধতিসহ নানা দাবি এনে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
দেশের রাজনীতিতে চলছে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক মিত্র বাড়ানোর প্রতিযোগিতা। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও সেমিনারে জমজমাট অবস্থা বিরাজ করছে।
বর্তমানে বিএনপি স্পষ্ট কোনো নির্বাচনী জোট বা সমঝোতার ইঙ্গিত না দিলেও সমমনা দল ও জোটগুলোর প্রতি আস্থা রাখছে। স্থানীয় পর্যায়ে অনেক মিত্র দলকে চিঠি দিয়ে সম্পর্ক দৃঢ় করার কাজ চলছে।
অন্যদিকে, জামায়াত অনেকটা সংগঠিতভাবে কাজ করছে। ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন ইসলামী দল ও কিছু মধ্যপন্থি দলকে নিয়ে শক্তিশালী জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। জামায়াতের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপির উপস্থিতি না থাকলেও এনসিপি, গণঅধিকারসহ অন্যান্য ইসলামী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে, এসব দল মিলে একটি বিএনপিবিরোধী নির্বাচনী জোট গঠন করতে পারে।
তবে এনসিপি জোটকে নির্বাচনী দল হিসেবে না দেখে সংস্কারকেন্দ্রিক বলে দাবি করছে। এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “জুলাই সনদ এখনও চূড়ান্ত হয়নি, ফলে নির্বাচন সংক্রান্ত তফসিলও ঘোষণা হয়নি। নির্বাচনী জোট হবে কি না সেটি এখনই নিশ্চিত নয়। তবে বিএনপির বাইরে অধিকাংশ দল জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপি সংস্কার প্রশ্নে এক পাথেই চলছে।”
জামায়াতের নেতারা এই জোট গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী এবং নির্বাচনে ভালো ফলাফল আশা করছেন। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “আমরা ৩০০ আসনে লড়াই করব, তবে এককভাবে নয়; সমমনা দলগুলো নিয়ে সিট সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। আমরা এবার জনগণের আস্থা অর্জন করব বলে বিশ্বাস করি।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই ধরনের জোট গঠনের দাবিকে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “পিআর পদ্ধতিসহ নানা দাবি তুলে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। এ ধরনের সরকার এখনো কোনো উপজেলায়, ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করেনি, শুধু জাতীয় নির্বাচন করেছে। পিআর দিয়ে তারা আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনরুত্থান করতে চাচ্ছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, “এখনই চূড়ান্ত জোটের সম্ভাবনা নেই। ইসলামিক দলগুলোর একটি জোট হতে পারে, এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের জোট হতে পারে বা নাও হতে পারে। সময় এখনও আছে, রাজনৈতিক দলগুলো ক্রমাগত ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে যাবে।”
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা, যেখানে তিনি ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটের ঘোষণা দেওয়ার কথা বলেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।




