
: জাতীয় পার্টিতে নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন চলছে। অনুমোদিত নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন পক্ষ ও জি এম কাদেরের পক্ষ দুইই নিজেদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দ্বারস্থ হয়েছে।
আনিসুল ইসলামরা ‘দশম কাউন্সিল’ শেষে নতুন কমিটি গঠন করে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছে। তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের নিবন্ধন ও ‘লাঙ্গল’ প্রতীক ব্যবহারের বৈধ অধিকার চেয়ে আবেদন করেছে। সংশোধিত গঠনতন্ত্রে চেয়ারম্যানের একচ্ছত্র ক্ষমতা সীমিত করে প্রেসিডিয়ামের অনুমোদনের শর্ত যোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে জি এম কাদেরের পক্ষ কমিশনে চিঠি দিয়ে এই সম্মেলন ও কমিটি গঠন অবৈধ দাবি করেছে। তাদের যুক্তি, চেয়ারম্যান ছাড়া অন্য কোনো নেতা সম্মেলন আহ্বান করতে পারেন না এবং তাই নতুন কমিটি বেআইনি।
গত ৯ আগস্ট গুলশানের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘দশম কাউন্সিলে’ আনিসুল ইসলামকে চেয়ারম্যান, মুজিবুল হককে নির্বাহী চেয়ারম্যান, কাজী ফিরোজ রশীদকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও এ বি এম রহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়। জি এম কাদের তাঁদের পদ থেকে অব্যাহতি দেন। এরপর আনিসুল পক্ষ ১০ নেতার সঙ্গে মামলা করেন এবং আদালত ১২ আগস্ট পর্যন্ত জি এম কাদেরসহ দুজনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়।
১২ আগস্ট আদালতের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাদীপক্ষ মামলা প্রত্যাহার করে। জি এম কাদেরের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘এতে চেয়ারম্যানের কার্যক্রমে কোনো আইনগত বাধা নেই, তিনি মুক্তভাবে কাজ করতে পারবেন।’
আনিসুল ইসলাম পক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক বলেন, ‘জি এম কাদের এখন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নন। নতুন কমিটি গঠন হয়েছে, তাই মামলার কোনো প্রয়োজন নেই।’
এখন জাতীয় পার্টিতে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব কেন্দ্রীভূত হয়ে রয়েছে-এক পক্ষ চাইছে নতুন কমিটি ও প্রতীক ব্যবহারের স্বীকৃতি, অন্য পক্ষ নতুন কমিটি অবৈধ প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে।




