
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চলতি মাসের মধ্যেই কেউ কেউ দলের কাছ থেকে প্রাথমিক ‘সিগন্যাল’ পেতে পারেন। পাশাপাশি, দলের ঐক্য ও সংহতি বজায় রেখে মাঠে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে রাজশাহী বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশে ভিডিও কলে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
দলীয় সূত্র জানায়, আগের দিন হঠাৎ করে রাজশাহী বিভাগের তালিকাভুক্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গুলশান কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বার্তা পাঠানো হয়। রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দনের মাধ্যমে এ বার্তা পাঠানো হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী ১৩১ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী সভায় অংশ নেন। প্রথমে ৯৯ জনকে ডাকা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ১৩১ জন করা হয়। এ সভায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কেউ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। মূলত এটি ছিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিকনির্দেশনামূলক বৈঠক।
সভা শেষে উপস্থিত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হাত তুলে ঐক্যবদ্ধভাবে তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দেন। পরদিন থেকেই অনেকে এলাকায় ফিরে গণসংযোগ শুরু করেছেন, কেউ কেউ ঢাকায় থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে রাজশাহীতে ৬টি, নাটোরে ৪টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩টি, নওগাঁয় ৬টি, জয়পুরহাটে ২টি, পাবনায় ৫টি, সিরাজগঞ্জে ৬টি এবং বগুড়ায় ৭টি আসন রয়েছে। এসব আসন থেকে গড়ে তিন থেকে চারজন করে মনোনয়ন প্রত্যাশীকে ডাকা হয়েছিল।
রাজশাহী-২ (মহানগর) আসন থেকে ডাকা হয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশাকে। তবে এ আসন থেকে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওক পদাধিকার বলে সেখানে ছিলেন।
দলীয় সূত্রমতে, রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশী মনোনয়ন প্রত্যাশী রাজশাহী জেলায়। এ জেলার ছয়টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন ৪৮ জন। যাদের মধ্যে পাঁচজন প্রবাসী এবং তারা দেশের বাইরে আছেন। বাকি ৪৩ জনের মধ্যে দুই/একজন বাদে বাকিরা নিজ নিজ আসনে সক্রিয়। তবে এই ৪৩ জনের মধ্যে সভায় ডাক পান ১৮ জন। পরে অবশ্য মনোনয়ন প্রত্যাশী সবাইকে সভায় যোগ দেওয়ার সুয়োগ দেওয়া হয়।
দলীয় একাধিক সূত্রে মতে, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রথম তালিকাটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দপ্তর থেকে আসে। সেখানে ৯৯ জনের নাম ছিল। এর মধ্যে রাজশাহী-১ আসন থেকে তিনজন, রাজশাহী-২ আসন থেকে দুইজন, রাজশাহী-৩ আসন থেকে তিনজন, রাজশাহী-৪ আসন থেকে চারজন, রাজশাহী-৫ আসন থেকে চারজন ও রাজশাহী-৬ আসন থেকে দুইজনের নাম। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দপ্তরের তালিকায় থাকা এই ১৮ জন দলের সবুজ সংকেত পেতে পারে এবং পরবর্তিতে তাদের মধ্যে থেকে প্রার্থী চুড়ান্ত হতে পারে।
রাজশাহী-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশা বলেন, “তারেক রহমান বলেছেন- ডাকা মানে মনোনয়ন পাওয়া নয়। কেউ যেন এলাকায় গিয়ে মনোনয়ন পেয়ে গেছেন বলে প্রচার না করেন। এতে ভুল বার্তা যাবে এবং ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
রাজশাহী-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন অতি উৎসাহী না হয়ে মাঠে কাজ চালিয়ে যেতে। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তাকে কেন্দ্র করে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দলীয় ত্যাগ, দক্ষতা ও জনপ্রিয়তা বিবেচনায়ই মনোনয়ন দেওয়া হবে।”
রাজশাহী মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আটজন। এরা হলেন, বিএনপির সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ভাই মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন, বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি সুলতানুল ইসলাম তারেক, বিএনপির প্রবীন নেতা ইঞ্জিনিয়ার কেএম জুয়েল, সুপ্রিমকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন, বিএনপি নেতা সাজেদুর রহমান মার্কনি, অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বিপ্লব এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অধ্যাপক শাহাদৎ হোসেন শাহীন, রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার।
রাজশাহী-২ (মহানগর) আসনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে চান তার অনুসারীরা। তাকে প্রার্থী করতে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন দীর্ঘ দিন ধরে। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) সৈয়দ শাহীন শওকত, মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশা।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন ছয়জন। এরা হলেন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তোফাজ্জাল হোসেন তপু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্র নেতা রায়হানুল আলম রায়হান, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সামাদ, সাবেক ছাত্রনেতা ইকবাল হোসেন ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত কবীর হোসেনের ছেলে নাসির হোসেন অস্থির।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর ভিড় সবচেয়ে বেশি। এ আসনে পিতা-পুত্রসহ মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন ১১ জন। এরা হলেন, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল গফুর, বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডিএম জিয়াউর রহমান, সদস্য সচিব অধ্যাপক কামাল হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জহুরুল আলম বাবু, সাবেক এমপি আব্দুল গফুরের ছেলে মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল ফারাবী, আমেরিকা প্রবাসী ড. জাহিদ দেওয়ান শামীম, রাজশাহী জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউল করিম টুটুল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সহ-সম্পাদক ডা. আশফাকুর রহমান শেলী, অ্যাডভোকেট মাহাফুজুর রহমান, সাবেক মন্ত্রী সরদার আমজাদ হোসেনের ছেলে সানিয়াত হোসেন শুভ, সুপ্রিমকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার সালেকুজ্জামান সাগর।
রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর-পুঠিয়া) আসনেও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর ছড়াছড়ি। এ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন চান নয়জন। তারা হলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক মাহমুদা হাবিবা, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, পুঠিয়া বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ইসফা খায়রুল হক, শিল্পপতি আব্দুস সাত্তার, এ আসনের সাবেক প্রয়াত সংসদ সদস্য নাদিম মোস্তফার ছেলে জুলকার নাঈম মোস্তফা, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যারিস্টার রেজাউল করীম, শ্রমিক দলনেতা রোকনুজ্জামান আলম ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কোষাধক্ষ্য গোলাম মোস্তফা।
রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনেও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকা বেশ দীর্ঘ। এই আসনে ধানের শেষের মনোনয়ন চার নয়জন। এরা হলেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক রমেশ দত্ত, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বজলুর রহমান, বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান মানিক, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আমিনুল ইসলাম মিঠু ও মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফুল ইসলাম বিলাত।




