আস্থায় বাংলা

প্রচলিত ধারায় নয়, সত্যই লক্ষ্য

রাজনীতি

জামায়াত সেক্রেটারির হুঁশিয়ারি – Padmatimes24

: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নভেম্বরে গণভোট ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের আদেশ জারিসহ পাঁচ দফা দাবি মেনে নিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। অন্যথায় আগামী ১১ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের এই নেতা।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আপনারা আমাদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়ে জুলাই সনদের গণআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। তা না হলে ১১ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে ইনশাআল্লাহ।”

তিনি জানান, খুব দ্রুতই উপদেষ্টা পরিষদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে দলটির প্রত্যাশা রয়েছে।

এর আগে পাঁচ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দেন জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দলের নেতারা। স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর মৎস্য ভবনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি আরও বলেন, “আগামী ১১ নভেম্বর আটটি রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে রাজধানীতে মহাসমাবেশ হবে। এর আগে সরকার আমাদের দাবি মেনে নিক, না হলে ঢাকায় লাখো জনতার পদচারণায় মুখরিত হবে রাজপথ।”

তিনি প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের আহ্বান জানান এবং বলেন, ১১ তারিখের সমাবেশ সফল করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ওই কমিটির মাধ্যমেই দেওয়া হবে।

এর আগে পল্টন মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “যদি দাবি মানা না হয়, তবে ১১ নভেম্বর ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি হবে। সেই দিন ঢাকা হবে জনতার নগরী—দাবি আদায়ের দিন।”

তিনি স্লোগান দিয়ে বলেন, “লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই।”

এদিকে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল থেকেই মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও পল্টন মোড়ে জড়ো হতে থাকেন জামায়াতসহ অন্যান্য দলের নেতা-কর্মীরা। বেলা ১১টার পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মিছিল নিয়ে পুরানা পল্টনে সমাবেশে মিলিত হন তারা। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করে আট দল।

অংশ নেওয়া অন্যান্য দলগুলো হলো-
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ইসলামী আন্দোলনের যুগ্মমহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইহজার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হাক্কানী, জাগপার মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান এবং বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক।

আট দলের পাঁচ দফা দাবি:

১. ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের আদেশ জারি এবং নভেম্বরের মধ্যেই ওই আদেশের ওপর গণভোট আয়োজন।
২. আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতি চালু।
৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
৪. তথাকথিত ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
৫. ‘স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

১১ নভেম্বরের মহাসমাবেশ ঘিরে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *