
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এ কারণে দলের ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও এখন উজ্জীবিত। সেই সাথে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও ভোট নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ডিএম জিয়ার মনোনয়নকে সমর্থন জানিয়ে আনন্দ ও উল্লাস প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
তবে প্রার্থী ঘোষণার পর কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাগমারা। ৩ নভেম্বর দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক সহিংসতা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার দিবাগত রাতেও জিয়াবিরোধীদের স্বজনের বাড়িতে বোমা হামলা এবং তিনটি পুকুরে বিষপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে।
তাহেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আবু নঈম সামসুর রহমান মিন্টু বলেন, ‘‘দীর্ঘ ১৬ বছর ডিএম জিয়া ভাইয়ের জন্য আমরা অপেক্ষায় ছিলাম। মনোনয়নের মধ্য দিয়ে আমাদের সেই আশা পূরণ হয়েছে। বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়াকে ধানের শীষের প্রার্থী করায় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ দলের হাই কমান্ডকে এই আসনটি এবার উপহার দিতে চাই।’’
ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘‘ডিএম জিয়া শুধু দলের একজন নেতাই নন, এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রয়েছে তার। তিনি একজন স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।’’
উপজেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ‘‘ডিএম জিয়া একজন উদার মনের ত্যাগী নেতা। বিগত ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে বাগমারায় বিএনপির যেসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা হয়েছে, তাদের জামিনে মুক্ত করাসহ মামলা মোকাবেলার সমস্ত দায়দায়িত্ব তিনিই বহন করেছেন।’’
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যাপক শামসুজ্জোহা বাদশা বলেন, ‘‘ডিএম জিয়াকে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ে পুরোদমে নির্বাচনী আমেজ চলছে। প্রাণ ফিরে পেয়েছেন উপজেলাবাসী।’’
জানা গেছে, সারা দেশব্যাপী বিএনপির দুর্দিনের সময় ২০০৮ সালে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে ডিএম জিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর তার নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি বিএনপির সংগঠন আরও গতিশীল ও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ কারণে ডিএম জিয়ার মনোনয়নকে ‘অনুমেয়’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতারা। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে উল্লাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এদিকে, প্রার্থী ঘোষনার পর বেশি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন এ আসনের অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী অনুসারীরা। শনিবার দিবাগত রাতে দুবিলা মধ্য দৌলতপুর বিলে এক মনোনয়নপ্রত্যাশী অধ্যাপক কামাল হোসেনের চাচা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ আব্দুস সোবহানের ইজারা নেওয়া তিনটি পুকুরে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে। এতে ৬০ বিঘার পুকুর তিনটিতে প্রায় ২ কোটি টাকার মাছ মারা গেছে।
এ আসনে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা যুবদলের সদস্যসচিব রেজাউল করিম টুটুলও। শনিবার রাতে টুটুল ও তাঁর শ্বশুর আবদুস সামাদের বাড়িতে বোমা হামলা করা হয়। তবে টুটুলের বাড়িতে ফেলে রাখা হাতবোমাগুলো বিস্ফোরিত হয়নি। তবে তাঁর শ্বশুর অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আব্দুস সামাদের বাড়িতে একটি হাত বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। পুলিশ আলামত উদ্ধার করেছে। টুটুলের বাড়ি বাগমারার বুজরুককৌড় গ্রামে। আর তাঁর শ্বশুরবাড়ি শান্তিপাড়া গ্রামে।
আব্দুস সোবহান বলেন, ‘‘এই পুকুরগুলো আগে চাষ করতেন ডি এম জিয়াউর রহমান। তিনি জমির মালিকদের ঠিকমতো টাকা দিতেন না। পরে জমির মালিক আমাকে পুকুরগুলো দেন। আমি নিয়মিত টাকা দিয়ে মাছ চাষ করছি। এখানে শতাধিক পুকুর। বেছে বেছে আমার পুকুরগুলোতে বিষ দেওয়া হয়েছে। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।’’
যুবদল নেতা টুটুল বলেন, ‘‘মনোনয়ন ঘোষণার পর আমরা সবাই নিজেদের মতো কাজ করেছি। দ্বন্দ্ব-বিভেদ হয়নি। সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণার পর এখন এসব ঘটনা ঘটছে। আমার শ্বশুর কোনো রাজনীতি করেন না। তিনি অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তাঁর বাড়িতে বোমা হামলা করা হয়েছে। আমার বাড়িতেও বোমা ছোড়া হয়েছে। সেটা বিস্ফোরিত হয়নি। সেগুলো আমরা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিয়ে উদ্ধার করিয়েছি।’’
এমন অবস্থায় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে রোববার নিজের ফেসবুকে পোষ্ট দিয়েছেন ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘‘কিছু কুচক্রী মহল শান্ত বাগমারাকে অশান্ত করার এবং বিএনপির ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টির পরিকল্পিত অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পুকুরে বিষ দেওয়া, বাড়িতে বোমা নিক্ষেপ -এমন ন্যাক্কারজনক অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘‘বাগমারা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সকল নেতা-কর্মী এবং সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করছি- সতর্ক থাকুন। কোনো ধরনের সন্দেহজনক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আভাস পেলে সাথে সাথে প্রশাসনকে জানান এবং প্রয়োজন হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। বাগমারায় সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই। আমরা শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ।’’
জানতে চাইলে ডি এম জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ‘‘বাগমারায় ধানের শীষের জোয়ার চলছে। কে বলছে আমার লোক এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে? বাগমারার প্রতিটি লোকই তো আমার লোক। আসলে কারা ঘটাচ্ছে, সে বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক। আমিও প্রশাসনকে বলেছি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে।’’




