
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই দেশে কয়েকটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা এখন ভারত থেকে অডিও বার্তা পাঠিয়ে নাশকতার নির্দেশ দিচ্ছেন। তাঁর নির্দেশেই বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে, এমনকি একজন পুড়ে মারা গেছেন।”
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
রিজভী বলেন, “কেউ কেউ বলছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ২০২৯ সালে নির্বাচন হবে। এগুলো ফ্যাসিবাদী কণ্ঠস্বর, ফ্যাসিবাদী আওয়াজ। তাই আমরা বলেছি, নির্বাচন ও গণভোট এক সঙ্গে হোক। এতে জুলাই বিপ্লবের আইনীকরণ হবে এবং জনগণ যাকে ভোট দেবে, তারা সরকার গঠন করবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগের হাতে প্রচুর অর্থ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা, পদ্মা সেতু, ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের টাকা তারা নাশকতায় ব্যবহার করছে।”
ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা বিষয়ে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ যেখানে জন্মে এবং বিকশিত হয়, সেখানে গণতন্ত্রের কোনো জায়গা থাকে না। এর ছোবলে নির্বাচন কমিশন, গণতন্ত্র, সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আক্রান্ত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সুরক্ষিত থাকে না।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন, “শেখ হাসিনা এই ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন। এর ফলে ক্যাম্পাসগুলোতে কোনো রাজনৈতিক সহাবস্থান ছিল না। আমাদের ছাত্রদলের ছেলেরা চায়ের দোকান বা শ্রেণিকক্ষে বসতে পারেনি। গত ১৫ বছর বাংলাদেশে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলকে এই বিষয়টি ভোগ করতে হয়েছে।”
সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, “ছাত্রদল ন্যায় ও গণতন্ত্রের পথে কখনো আপস করেনি। সাম্প্রতিক চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনে হয়তো আমরা পরাজিত হয়েছি, কিন্তু এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব।”
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ (রাহী)। সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল হক।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- ইউট্যাব রাবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল আলীম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ।




