
নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ‘এই দেশের মানুষ ধর্মকে ভালোবাসে, আল্লাহর নবীকে ভালোবাসে, কিন্তু ধর্মান্ধ নয়, সাম্প্রদায়িক নয়’ -এই মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামের ভোট ছিল পাঁচ থেকে সাত শতাংশের মধ্যে। “রাতারাতি লাভ দিয়ে একান্নতে চলে যাবেন -এইটা আমরা মনে করি না। বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের সহজে ভোট দেবে না, কারণ আপনাদের বিশ্বাস করে না।”
শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর ন্যায্য হিস্যার দাবিতে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, একটি দল এখন দেশের রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করছে। তিনি বলেন, “১৭ অক্টোবর আমরা সবাই মিলে সংস্কারের সনদে সই করলাম। হঠাৎ করেই সেই দল বলছে- তাদের পিআর দরকার। যে জিনিসটা বাংলাদেশের মানুষ বোঝে না, সেটা ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে। আর লাফায় উঠছে যে তারা ক্ষমতায় যাবে।”
১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, “স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় শুধু বিরোধিতাই করেননি, পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণহত্যা করেছেন। আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলছি- এই সত্য অস্বীকার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবোলতাবোল বলে আমাদের দমাতে পারবেন না।”
২০২৬ সালের নির্বাচিত সরকার শক্তিশালী না হলে পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে বাংলাদেশকে আরও ভুগতে হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “এটা প্রমাণিত- মানুষের অধিকার পেতে হলে বিএনপির সরকারই প্রয়োজন। সারা বিশ্বকে জানাতে হবে, পদ্মা আন্তর্জাতিক নদী এবং এ নদীর পানিতে আমাদের ন্যায্য অধিকার রয়েছে।”
গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গঙ্গা ব্যারাজ করবে। এতে পানি ধরে রেখে দেশের নদী-খাল বাঁচানো যাবে, বন্যার সময়ও পানি আটকে রাখা সম্ভব হবে।”
ভারতের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, “পানি বন্ধ করবে, সীমান্তে হত্যা বাড়াবে, যখন-তখন সার-পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করবে -এই দাদাগিরি আর দেখতে চাই না। আমরা সমান মর্যাদার সম্পর্ক চাই।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ। বক্তব্য রাখেন, দলের উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা, কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক ও সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শরীফ উদ্দীন, কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনবাসন বিষয়ক সহসম্পাদক শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তসিকুল আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




