
নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশে একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পবা-মোহনপুর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
মোহনপুরের জাহানাবাদ ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মিলন বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতার জন্য সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল-মামুনের পাঁচ বছরের সাজা -এ রায় দেশে নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে।
তিনি বলেন, শহীদদের স্বজনরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, কেউ খুশি হয়েছেন। বিএনপির মতে, এ রায় অতীতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্যও ইঙ্গিতবাহী।
তিনি বলেন, পবা-মোহনপুরে মেরাজ হত্যার ঘটনা সকলেই জানে। যার নেতৃত্বে এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল- তার নাম উচ্চারণ করতেও ঘৃণা লাগে। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা কিছু করলে তার অনুসারীরা তিনগুণ বাড়িয়ে দিতেন।
মিলন বলেন, পতিত সরকারের নেতাকর্মীরা এখন দেশহীন ও ঘরবাড়িহীন হয়ে পড়েছেন। বিএনপি ১৭ বছর নির্যাতিত থাকলেও নেতাকর্মীরা দেশ ছাড়েননি। এর কৃতিত্ব দেন তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও স্থিরতার প্রতি। তিনি বলেন, শত নির্যাতন সত্ত্বেও খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে যাননি; বাড়ি হারিয়েছেন, সন্তান হারিয়েছেন, জেল খেটেছেন, এখন গুরুতর অসুস্থ। ছয়বার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন- আল্লাহ তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তবুও তিনি দেশের মানুষের পাশে আছেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী রায়ের আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান- যা দেশপ্রেমের অভাবকেই নির্দেশ করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মিলন বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ বহু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজনৈতিক আদর্শ ও চরিত্রহীন দলের সঙ্গে চলা জনগণের জন্য ক্ষতিকর। তিনি দাবি করেন, দেশে নির্বাচনমুখী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলাম নির্বাচন নিয়ে দ্বৈত অবস্থান তৈরি করছে- একদিকে প্রার্থী ঘোষণা, অন্যদিকে বিভ্রান্তি ছড়ানো; যা জনগণের সাথে প্রতারণা বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি নেতাকর্মীদের তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন এবং প্রতিটি কেন্দ্রে সেন্টার কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাহানাবাদ ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি তৈয়বুর রহমান সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান, শাহিন আক্তার শামসুজ্জোহা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম, জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি জিল্লুর রহমান শাহ, সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দীন আহমেদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া রাতে তিনি মোহনপুরের ভাদুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠেও আরেকটি কর্মীসভায় অংশ নেন।




