
: গোপালগঞ্জে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘সর্বাত্মক’ হরতালের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগের চারটি সহযোগী সংগঠন- যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগ। যদিও চলতি বছরের ১২ মে থেকে দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো এই হরতালের ঘোষণা দেয়। বিবৃতিটি আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেইজে প্রকাশ করা হয় এবং তা সংবাদমাধ্যমেও পাঠানো হয়।
বুধবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ শহরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এনসিপি অভিযোগ করেছে, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তাদের মঞ্চ ও গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের এই চার সংগঠনের দাবি, গোপালগঞ্জে ‘নির্বিচারে গুলি চালিয়ে’ হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। একই বিবৃতিতে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বিচার কার্যক্রমের বিরোধিতা করে।
তারা আরও দাবি করেছে, অন্তর্বর্তী সরকার ‘অবৈধভাবে’ ক্ষমতা দখল করেছে এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই সন্ত্রাস, সহিংসতা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশ চালাচ্ছে। বিবৃতিতে সরকারকে ‘সংবিধান লঙ্ঘনকারী’, ‘খুনি’ ও ‘ফ্যাসিস্ট’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
এই হরতালকে ‘মার্চ টু যমুনা’ নামে ঘোষিত ভবিষ্যৎ আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংগঠনগুলো জানিয়েছে, সরকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এরই ধারাবাহিকতায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগ এবং ২০২৫ সালের ১২ মে আওয়ামী লীগ ও তার সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার।
দলটির নেতাকর্মীরা যদিও ফেব্রুয়ারিতে কয়েক দফা অবরোধ ও হরতাল ডেকেছিল, কিন্তু কোনো কার্যকর মাঠ-উপস্থিতি দেখা যায়নি। এবারও হরতাল ঘিরে বড় ধরনের জনসমাগম বা কর্মসূচির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানান, “যে কোনো ধরনের হুমকি বা পরিস্থিতির জন্য আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি থাকে। সবকিছু নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিনই নানা ধরনের হুমকি আসে। আমরা গুরুত্ব বিবেচনায় ব্যবস্থা গ্রহণ করি।”
এদিকে, রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।




