আস্থায় বাংলা

প্রচলিত ধারায় নয়, সত্যই লক্ষ্য

রাজনীতি

দীর্ঘ ১৬ বছর পর রাজশাহী নগর বিএনপির সম্মেলন, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবদেক: দীর্ঘ ১৬ বছর পর রাজশাহী মহানগর বিএনপি আয়োজন করেছে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন। আজ রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলীয় সূত্র বলছে, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৯ সালে। ২০১৩ সালে প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। এরপর গঠিত কমিটি বিলুপ্ত হয়ে ২০২১ সালে তিন মাসের জন্য আসে আহ্বায়ক কমিটি। সেই কমিটি এখন তিন বছর পেরিয়ে গেছে।

দীর্ঘ বিরতির পর এই সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা। সম্মেলন উপলক্ষে কয়েক দিন ধরেই প্রধান সড়ক, মোড় ও দেয়ালজুড়ে নেতাকর্মীদের ছবি সংবলিত পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হয়েছে। এতে রাজশাহী শহরের রাজনৈতিক আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

রাজশাহী মহানগরের সাংগঠনিক সাতটি থানা ও ৩৭টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, ডেলিগেটসহ হাজারো নেতাকর্মী এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা আশা করছেন।

আসন্ন কমিটিতে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদে নবীন মুখ আসতে পারে বলে ধারণা তৃণমূলের। এর মধ্যে সভাপতি পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুন।

সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির সদস্যসচিব মামুনুর রশিদ মামুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক ওয়ালিউল হক রানা, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা আবুল কালাম আজাদ সুইট, নগর যুবদলের আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা মাহফুজুর রহমান রিটন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই সম্মেলন বিএনপির জন্য একটি বড় পরীক্ষা। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে কতটা সক্রিয়ভাবে তারা মাঠে ফিরতে পারে, এই সম্মেলন তার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিতে পারে।

এদিকে, শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, রাজশাহী মহানগরে বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৯ সালে। এরপর রাজনৈতিক অস্থিরতা, মামলা-হামলা এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে এত বছর সম্মেলন আয়োজন সম্ভব হয়নি। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে জর্জরিত করা হয়েছিল। ফলে রাজনীতি করার পরিবেশ ছিল না।

তিনি বলেন, “আগামী দিনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দেশের ক্ষমতায় যাবে বিএনপি। শত ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণ এই নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবে। নির্বাচন প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ। দল থেকে যাদের মনোনয়ন দেয়া হবে, তারাই প্রার্থী হবে- এ নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।”

আব্দুস সালাম আরও বলেন, এই সম্মেলন শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রম নয়, বরং আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ে বিএনপির ঐক্য ও সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠবে।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *