
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ সাত বছর পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে গেলেন তাঁর সহধর্মিণী এবং দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার রাতে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে গিয়ে তিনি দোয়া ও মোনাজাত করেন।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, বুধবার রাত ১০টার দিকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে খালেদা জিয়া গাড়িবহর নিয়ে শেরেবাংলা নগরের উদ্দেশে রওনা দেন। রাত ১১টার দিকে সেখানে পৌঁছে প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থান করেন তিনি। এ সময় স্বামীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও ফাতেহা পাঠ করেন।
খালেদা জিয়ার উপস্থিতির খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাধি এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। রাতের নীরবতা ভেঙে ‘জিয়া পরিবার চিরজীবী হোক’ ও ‘আমার নেতা আমার গর্ব-জিয়াউর রহমান’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বঘোষিত কোনো কর্মসূচি ছাড়াই খালেদা জিয়ার হঠাৎ এই সফরকে ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। দলীয় নেতা-কর্মীদের অনেকে একে ‘প্রেরণার প্রতীকী মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করছেন।
তবে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “এটা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়। ম্যাডাম শুধু তাঁর হাজব্যান্ডের (স্বামীর) কবরে দোয়া করতে এসেছেন।”
দলের অন্য নেতারা জানান, অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির বাইরে থাকলেও তিনি নিয়মিতভাবে দলের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত থাকেন। জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের ইচ্ছা। চিকিৎসকদের অনুমতি পাওয়ার পরেই এই সফর সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে খালেদা জিয়া আর জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতে যাননি। ২০২০ সালে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি বাড়ির বাইরে খুব কমই গেছেন। সাত বছর পর সমাধিতে তাঁর এই উপস্থিতিকে বিএনপি নেতারা “দলের জন্য নতুন উদ্দীপনার মুহূর্ত” হিসেবে দেখছেন।



