আস্থায় বাংলা

প্রচলিত ধারায় নয়, সত্যই লক্ষ্য

রাজনীতি

বিএনপি-জামায়াতের বাইরে ‘তৃতীয় বলয়’ গঠনের উদ্যোগ – Padmatimes24

 

: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে তৃতীয় একটি রাজনৈতিক বলয় গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কয়েকটি নতুন ও বিকল্প রাজনৈতিক দল। এই বলয়ে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তরুণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির চাহিদা বাড়ছে। ফলে তৃতীয় বলয়টি নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য আনতে পারে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও আপ বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছে। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও সংস্কারের আদর্শকে সামনে রেখে একক প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরু করেছে। লক্ষ্য, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং পরবর্তী সময়ে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করা।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থন থেকে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণঅধিকার পরিষদকেও যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক দলগুলো—জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও ভাসানী জনশক্তি পার্টির সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে।

তৃতীয় বলয় গঠনের আভাস মিলেছে বৃহস্পতিবার রাজধানীর তোপখানা রোডের এক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক ঐক্য: ক্ষমতা না জনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায়। এটি আয়োজন করে এবি পার্টি ও আপ বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সদস্য ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. বদিউল আলম মজুমদার, দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান কাইয়ূম। সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, আর সঞ্চালনা করেন আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র শাহরিন সুলতানা ইরা।

আপ বাংলাদেশের আহবায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, “বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে আমরা তৃতীয় একটি বলয় গঠনের চেষ্টা করছি। এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং আমরা কাছাকাছি এসেছি। এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদসহ সবাইকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।”

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “প্রাথমিক আলোচনা চলছে, তবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনী জোট নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও ঐক্যের ভিত্তিতেই আমরা এগোচ্ছি।”

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানকে ধারণ করে যারা দেশের সংস্কারকে প্রধান এজেন্ডা মনে করে, তাদের একটি প্ল্যাটফর্মে আনতে চাচ্ছি। এটি পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াতের বাইরে নির্বাচনী জোট হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।”

তবে এই উদ্যোগে সবাই একমত নয়। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, “আমরা এখনো নির্বাচনী জোট নিয়ে আলোচনা করিনি। তৃতীয় শক্তি গঠনের জন্য জোট নয়, বরং একটি নতুন দল গঠন করা হলে সেটি বেশি কার্যকর হতো।”

অন্যদিকে এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, “বিএনপি-জামায়াতের বাইরে একটি তৃতীয় শক্তির প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদা আছে। আমরা সেটি ধারণ করি। সময় ও রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুবুল হক মনে করেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির চাহিদা স্পষ্ট। এই দলগুলো যদি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হতে পারে এবং জনআস্থা অর্জন করে, তবে নির্বাচনের আগেই তৃতীয় শক্তি রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে আসবে।”

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *