আস্থায় বাংলা

প্রচলিত ধারায় নয়, সত্যই লক্ষ্য

রাজনীতি

প্রার্থী বাছাইয়ের মাঝপথে বিএনপি – Padmatimes24

: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বিএনপি। দলটির হাইকমান্ড বলছে, এবার প্রার্থী নির্ধারণে তারা নিতে যাচ্ছে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বহুস্তরীয় যাচাই-বাছাই পদ্ধতি। এরই অংশ হিসেবে বর্তমানে চলছে তৃতীয় ধাপ, যেখানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দলের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ প্রক্রিয়া মোট ছয়টি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজস্ব সূত্রে সারাদেশে জরিপ পরিচালনা করেন। ওই জরিপে প্রতিটি আসনের জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক শক্তি, জনসম্পৃক্ততা এবং প্রার্থীর অতীত ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে উদ্যোগ নেন। এই দুই ধাপ শেষ হয়েছে। বর্তমানে তৃতীয় ধাপ চলছে, যার মাধ্যমে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

বিএনপির গুলশান কার্যালয় ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা জানান, এ ধাপ শেষ হলে চতুর্থ ধাপে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হবে। এরপর আবেদন যাচাই ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। ষষ্ঠ ধাপে ঘোষিত হবে ৩০০ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা।

দলীয় সূত্র বলছে, নির্বাচনের আগে তাড়াহুড়ো করে প্রার্থী ঘোষণা না করার পেছনে বেশ কিছু কৌশলগত কারণ রয়েছে। বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা মনে করেন, নির্বাচনী তপশিলের আগে প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেললে অভ্যন্তরীণ বিরোধ বাড়তে পারে এবং মনোনয়ন ফরম বিক্রির মাধ্যমে দলের আয়ের ওপরও প্রভাব পড়বে। সাধারণত এক আসনে তিন থেকে সাতজন পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম কিনে থাকেন, যা দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উৎস।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, “ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অক্টোবরের মধ্যেই একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি সরাসরি তদারকি করছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।” তিনি আরও বলেন, “এটি একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে সবাইকে দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।”

দলের কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া জানান, তাঁর বিভাগের ২২টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নেওয়া হয়েছে। একইভাবে রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন শওকত বলেন, তাঁর বিভাগের প্রার্থীদের নথিপত্র সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে।

সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত বিএনপি দুই ধাপের জরিপ সম্পন্ন করেছে। প্রথমে মাঠপর্যায়ে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততা যাচাই করা হয়, পরে সিনিয়র নেতারা অঞ্চলভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করেন। এখন তৃতীয় ধাপে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই চলছে, যা দলীয় ঐক্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবরের মধ্যেই ৭০ শতাংশ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এ বাছাই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তরুণ নেতৃত্বের ওপর জোর দেওয়া। বিএনপি মনে করে, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে, সেখানে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে আনা জরুরি। তাই শতাধিক আসনে নতুন মুখ আনার পরিকল্পনা করছে দলটি।

বিএনপির পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু বলেন, “এবারের প্রার্থী বাছাইয়ে অভিজ্ঞ ও নবীনের মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে। তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে প্রধান মাপকাঠি ধরা হয়েছে।”

দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, “বহুস্তরীয় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এমন একটি প্রার্থী তালিকা তৈরি করার চেষ্টা চলছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং দলীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।”

সার্বিকভাবে দেখা যায়, বিএনপি এবার শুধু মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারের ওপর নির্ভর না করে, একটি পদ্ধতিগত ও তথ্যনির্ভর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যোগ্যতম প্রার্থী নির্বাচনের চেষ্টা করছে। এতে তরুণ নেতৃত্বের উত্থান, তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্য রক্ষাই দলটির মূল লক্ষ্য।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *