
: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে পৌরসভা, ওয়াপদা মোড় ও আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বলে জানিয়েছেন বোয়ালমারী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কৃষক দলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামসুদ্দীন মিয়া ঝুনুর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তারা দুজনেই ফরিদপুর-১ আসনে (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। সোমবার বিএনপি ২৩৮ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও এই আসনের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়।
বেলা ৩টার দিকে শামসুদ্দীনের সমর্থকরা ওয়াপদা মোড়ে এবং নাসিরুলের সমর্থকরা কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। তাদের হাতে ছিল বাঁশের লাঠি ও ধানের শীষের প্রতীক। বিকেল ৪টার দিকে নাসিরুলের সমর্থকরা মিছিল নিয়ে ওয়াপদা মোড়ের দিকে অগ্রসর হলে শামসুদ্দীনের সমর্থকরা কলেজের দিকে অগ্রসর হন। পৌরসভার সামনে পৌঁছে দুই পক্ষ একে অপরের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
সংঘর্ষে নাসিরুলের সমর্থকরা সংখ্যায় বেশি হওয়ায় শামসুদ্দীনের অনুসারীরা পিছু হটে হারুন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিব্বির আহমেদ ও ওসি মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেন। তবে একপর্যায়ে হামলার মুখে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এরপর নাসিরুলের সমর্থকরা হারুন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থাকা অন্তত ১৫টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভবনের নিচতলায় থাকা শামসুদ্দীনের কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া আশপাশের কয়েকটি দোকানও ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দুপক্ষের ইট-পাটকেল ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুলিশও কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রথমে আগুন নেভাতে গিয়ে বাধার মুখে ফিরে গেলেও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
বিএনপি নেতা শামসুদ্দীন মিয়া ঝুনু বলেন, “প্রশাসনকে জানিয়ে আমরা ওয়াপদা মোড়ে অনুষ্ঠান করছিলাম। হঠাৎ নাসিরুলের লোকজন আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা ১০টি মোটরসাইকেল ও আমার কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে। এ ঘটনায় আমার ১৫ জন সমর্থক আহত হয়েছেন।”
অন্যদিকে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, “আমি তখন মধুখালীতে ছিলাম। আমাদের সমর্থকদের ওপর প্রথম হামলা হয়। এক পর্যায়ে তারা শপিং কমপ্লেক্সের ওপর থেকে আমাদের দিকে ইট ছুড়লে চার-পাঁচজন আহত হন। এতে জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে পাল্টা হামলা চালায়।”
বোয়ালমারী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”




