আস্থায় বাংলা

প্রচলিত ধারায় নয়, সত্যই লক্ষ্য

রাজনীতি

কারও দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করা এই সরকারের কাজ নয় : তারেক রহমান – Padmatimes24

: জনগণের ভোটে গঠিত একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠাই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “অবশ্যই কারও দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করা এই সরকারের কাজ নয়।”

শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলন-২০২৫’ -এ লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন, মঠ-মন্দির পরিচালনা কমিটি ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বেদ ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে অতিথিরা প্রদীপ প্রজ্বালন করেন।

তারেক রহমান বলেন, দেশ অস্থিতিশীল হলে পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদী অপশক্তির পুনর্বাসনের পথ সুগম হতে পারে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কেউ কেউ বাঁচতে গুপ্ত কৌশল নিয়েছিল। এখন সেই পরাজিত অপশক্তিও একইভাবে গণতন্ত্রের উত্তরণে বাধা দিতে পারে -এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সহযোগী কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ড দেশে অনেক মানুষের অধিকার ও সুযোগকে বিনষ্ট করার পরিস্থিতি তৈরি করছে। এ সময় পতিত ও পলাতক অপশক্তিকে কোনো সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “গুপ্ত বাহিনীর অপকৌশল থেকে রক্ষার প্রধান উপায় হলো ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা।”

তারেক রহমান দাবি করেন, বিএনপি বরাবরই শান্তিকামী, সহনশীল ও গণমুখী রাজনৈতিক দল। তিনি বলেন, “ভিন্ন দল ও মতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা বিএনপির রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করাই বিএনপির রাজনীতি।”

নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ৫০ লাখ পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। “তরুণ জনগোষ্ঠীকে কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে,” যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের বন্ধন আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের সৌন্দর্য। এই বৈচিত্র্যময় সমাজের ঐক্যসূত্রই হলো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।”

সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে এই দেশে আপনার যতটুকু অধিকার, আমারও ঠিক ততটুকুই অধিকার- কারও বেশি বা কম নয়।” হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি তিনি মনোযোগসহকারে শোনেন এবং তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের আহ্বায়ক সোমনাথ সেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবিগুলো তুলে ধরেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশে একটি সত্যিকার অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যেখানে সব জাতি ও ধর্মের মানুষের অধিকার সংরক্ষিত থাকবে।”

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এছাড়া মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের সদস্যসচিব ও মুখপাত্র কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, যুগ্ম আহ্বায়ক সমেন সাহা, হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, হিন্দু ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের নেত্রী সুবর্ণা রানী ঠাকুর বক্তব্য দেন।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *