
: ‘পূজা শয়তানের ইবাদত, রোজা আল্লাহর ইবাদত’ -বিতর্কিত এ মন্তব্যের জেরে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদকে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুমন কুমার রায়।
জানা যায়, সোমবার (১৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র সাজন কুমার মিস্ত্রীর পক্ষ থেকে নোটিশটি প্রেরণ করা হয়। এর আগে শনিবার (১৫ নভেম্বর) পদ্মা অববাহিকায় পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আয়োজিত গণসমাবেশে জামায়াতকে সমালোচনা করতে গিয়ে হারুনুর রশীদ এই মন্তব্য করেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক এমপি হারুনুর রশীদের বক্তব্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে কুঠারাঘাত করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সনাতন সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সংবিধানে সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলেও একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির মুখে এমন মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন, সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক এবং দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাবিরোধী।
নোটিশদাতারা আরও জানান, এ ধরনের বক্তব্য দেশে স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উসকানি দিয়ে নির্বাচন বানচালের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। আগামী নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন মন্তব্যকে উদ্দেশ্যমূলক বলেও উল্লেখ করা হয়।
উকিল নোটিশে হারুনুর রশীদকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করে সনাতন সম্প্রদায়ের কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। তা না হলে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে আদালতে মামলা করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুমন কুমার রায় গণমাধ্যমকে বলেন, “আপত্তিকর বক্তব্যের জেরে হারুনুর রশীদকে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সময়মতো জবাব না দিলে প্রচলিত আইনে মামলা করা হবে।”
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হারুনুর রশীদ জানান, ফেসবুকে নোটিশের খবর দেখেছেন, তবে এখনো হাতে পাননি। নোটিশ হাতে পেলে জবাব দেবেন বলে জানান তিনি।
শনিবারের সমাবেশে বক্তব্যের একপর্যায়ে হারুনুর রশীদ বলেন, “জামায়াতের বক্তারা মন্দির-মসজিদে গিয়ে বলছেন, পূজা ও রোজা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। পূজা হচ্ছে শয়তানের ইবাদত, আর রোজা আল্লাহর ইবাদত।”
তিনি আরও বলেন, “একটি ভোটের জন্য হিন্দু সম্মেলন করে তারা বলছে- হরি হরি বোল, দাঁড়িপাল্লা টেনে তোল।”




