
: কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর শহরের জনতা শপিং সেন্টার চত্বরে আয়োজিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পথসভা মঞ্চ ভাঙচুর করেছেন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। শনিবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ট্রাকের উপর নির্মিত মঞ্চটি ভেঙে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযান চালায়।
এই ঘটনার সূত্রপাত হয় দুপুরে কক্সবাজার শহরের একটি সমাবেশে দেওয়া এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যকে ঘিরে। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে ইঙ্গিত করে বলেন:
“আগে নারায়ণগঞ্জে বিখ্যাত গডফাদার শামীম ওসমান ছিল। এখন শুনছি কক্সবাজারের নব্য গডফাদার শিলং থেকে এসেছে… কক্সবাজারের জনতা এ ধরনের সংস্কারবিরোধী, যে পিআর বোঝে না, রাজপথে তাঁদের দেখিয়ে দিবে ইনশা আল্লাহ।”
এই বক্তব্যকে ঘিরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাঁরা অভিযোগ করেন, এই বক্তব্য তাদের প্রিয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমদকে অপমান করেছে।
বিকেল চারটার দিকে চকরিয়ায় মহাসড়কে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন এবং সালাহউদ্দিন আহমদের পক্ষে স্লোগান দেন। বিকেল পৌনে চারটার দিকে, জনতা শপিং সেন্টার চত্বরে নির্মিত এনসিপির পথসভার মঞ্চে হামলা চালান বিএনপি ও ছাত্রদলের কর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে মঞ্চ ভাঙচুর করেন, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং ট্রাকের কাচ ভেঙে দেন।
এনসিপির চকরিয়া উপজেলা সংগঠক খাইরুল বাশার বলেন, “ছাত্রদল ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা আমাদের মঞ্চে হামলা করে পুরো আয়োজন নষ্ট করে দিয়েছে।”
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ইমন সৈয়দ জানান, “বিকেলে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হামলার কারণে আমরা অনুষ্ঠান করতে পারিনি। বর্তমানে আমরা লামা-থানচি সড়কের ফাসিয়াখালী এলাকায় অবস্থান করছি। আমাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।”
চকরিয়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, “সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মঞ্চ ভাঙচুরের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য আমাদের কাছে আসেনি।”
একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া উত্তেজনা চকরিয়ায় সহিংসতায় রূপ নেয়। এই ঘটনা প্রমাণ করে, রাজনৈতিক পরিসরে শালীনতা ও সহনশীলতার অভাব এখনো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংস পরিণতির জন্ম দিতে পারে।
প্রশাসনের উপস্থিতিতে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো গেলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সংলাপের প্রয়োজনীয়তা আরও একবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো এই ঘটনা।




