
নিজস্ব প্রতিবেদক : লন্ডনে বসে বাংলাদেশের জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলছেন তারেক রহমান। প্রজেক্টরের পর্দায় তাঁর মুখ, ভেসে আসছে কণ্ঠস্বর-রাজশাহীর পবা উপজেলার এক স্কুলের মাঠে তখন টানটান উত্তেজনা।
বিবিসি বাংলার পর্দায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মুখোমুখি সাক্ষাৎকার দেখছেন পাঁচ শতাধিক জনগণ। প্রায় দুই দশক পর তাঁর এমন উপস্থিতি-এই উত্তেজনাই যেন ছড়িয়ে পড়েছে পবা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাজনীতিতে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার দারুশা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে প্রজেক্টরের আলোয় ভেসে উঠল সেই সাক্ষাৎকার। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এই প্রদর্শনীতে অংশ নেন পবা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় পাঁচ শতাধিক সাধারণ জনগণ। স্কুল প্রাঙ্গণে সাঁঝের বাতাসে মিশে গেল স্লোগান আর করতালির শব্দ।
এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. রায়হানুল আলম রায়হান। তিনি বলেন,“দীর্ঘদিন পর আমাদের নেতা সরাসরি কথা বলেছেন, সেটাই আমাদের জন্য বড় পাওয়া। তিনি যে ভাষায় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংকট, নির্বাচনের অনিশ্চয়তা আর জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন-এটা শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের নয়, সাধারণ মানুষেরও কথা।”
তিনি আরও যোগ করেন,“তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা আন্দোলনের নতুন দিকনির্দেশনা পেয়েছি। তিনি রাজনীতিতে সহিংসতা নয়, যুক্তি ও সংগঠনের পথ দেখিয়েছেন। তাঁর প্রতিটি বাক্যের পেছনে আমরা রাষ্ট্র পুনর্গঠনের চিন্তা দেখতে পাই। বিএনপি এখন শুধু ক্ষমতার রাজনীতি করছে না; বরং একটি ন্যায্য, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখছে।
প্রজেক্টর প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন- হুজুরীপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সেন্টু কুমার সাহা, পবা উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম, নওহাটা পৌর কৃষকদলের আহ্বায়ক মো. রবিউল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দল পবা উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোমিনুল ইসলাম ডলার এবং গণতান্ত্রিক পরিষদ পবা উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মুরশালিন ইসলাম বাচ্চু।
প্রদর্শনীতে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানকে সরাসরি বক্তব্য রাখতে দেখে তাঁরা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এসময় জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সেন্টু কুমার সাহা বলেন,“রাজনীতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা দেখছি যে দেশের সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সংযুক্ত করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ গঠনের দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের প্রজেক্টর প্রদর্শনী সাধারণ মানুষকে রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন করার জন্য সহায়ক। এটি সমাজের প্রতিটি স্তরে আলো ছড়াবে।”
হুজুরীপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন,“তারেক রহমানের বক্তব্য বড়ো পর্দায় সরাসরি শুনতে পেয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ বেড়েছে। তিনি যে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন, তা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জনমতের সঙ্গে রাজনীতির সংযোগ দৃঢ় করতে এই ধরনের প্রজেক্টর প্রদর্শনী খুবই কার্যকর। এটি শুধুমাত্র দলের কর্মীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষকেও রাজনৈতিক সচেতন করেছে।”
কৃষকদল নেতা রবিউল ইসলাম বলেন,“নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে তারেক রহমানের বিশ্লেষণ আমাদের আন্দোলনের শক্তি বাড়াবে। জনগণও এখন জানতে পারছে বিএনপি কী ভাবছে।”
স্থানীয়রা জানান, মাঠে এমন পরিবেশ অনেক দিন পর দেখলেন তাঁরা। এই উপজেলার শিক্ষক দুলাল মাহবুব বলেন,“রাজনীতি নিয়ে তরুণদের মধ্যে আগ্রহ কমে গিয়েছিল। আজকে তাদের চোখেমুখে যে আলো দেখলাম, তাতে মনে হয় রাজনীতি আবার মাঠে ফিরছে।”
বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির ও সিনিয়র সাংবাদিক কাদির কল্লোলের সঙ্গে নেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অংশ নিতে চায়, তবে তার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন জরুরি। এই বক্তব্যই এখন রাজনীতির অন্দরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বিএনপির এই উদ্যোগ তৃণমূল কর্মীদের সংগঠিত করতে সহায়ক হবে। রাজশাহীর পবা উপজেলার দারুশার মতো প্রত্যন্ত এলাকায় প্রজেক্টরে সাক্ষাৎকার দেখানো দলীয়ভাবে নতুন কৌশলও হতে পারে বলে তাঁদের অভিমত।
সন্ধ্যার পর যখন দারুশা স্কুল মাঠ থেকে একে একে মানুষ ঘরে ফিরছে, তখনও প্রজেক্টরের আলো নিভে যাওয়ার পর্দায় ভেসে ছিল তারেক রহমানের মুখ। রাজনীতির মাঠে সেই আলো এখনও টিকে আছে-কমপক্ষে পবার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে তো বটেই।




