আস্থায় বাংলা

প্রচলিত ধারায় নয়, সত্যই লক্ষ্য

রাজনীতি

নির্বাচনকে বানচাল করতে নিত্যনতুন দাবি উঠছে: মির্জা ফখরুল – Padmatimes24

: পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য নিত্যনতুন দাবি তোলা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য, নির্বাচনকে ব্যাহত করার জন্য নিত্যনতুন দাবি তুলছে। এমন দাবি করা হচ্ছে, যার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ পরিচিত নয়।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাজী জাফর আহমদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ভাসানী জনশক্তি পার্টি।

সংস্কারের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলো সব ধরনের সহযোগিতা করছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁরা কোথাও বাধা সৃষ্টি করেননি। কখনো বড় ধরনের দাবি তুলে রাজপথে নেমে সরকারকে বিব্রত করেননি।

তিনি বলেন, সংস্কার শব্দের সঙ্গে সাধারণ মানুষ পরিচিত নয়। সেখানে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (পিআর) বুঝতে সময় লাগবে। এটা মানুষকে বোঝানো খুবই কঠিন। আবার কাকে ভোট দেওয়া হচ্ছে, সেটা জানা যাবে না। কিন্তু এসব বাস্তবায়নে অনেকে কথা বলছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন।

গণ-অভ্যুত্থানের সাত থেকে আট দিন পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক অনুষ্ঠানে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের দাবি তুলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ নিয়ে তাঁকে অনেক সমালোচনাও সহ্য করতে হয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, যখনই একটা পরিবর্তন হয়, সেই পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে নেয় অন্যরা।

গণ-অভ্যুত্থানের তিন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হলে অর্থনীতির এই বেহাল অবস্থা দেখতে হতো না বলে মনে করেন বিএনপির মহাসচিব। তার মতে, নির্বাচিত সরকার ম্যান্ডেট ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই শক্তিগুলোকে প্রতিহত করতে পারত।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে যারা সহযোগিতা করেছে, তারাই আজ বড় বড় কথা বলছে। এ কারণে সবার আরও সজাগ থাকতে হবে।

গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে, এ কারণে সরকারের ভেতরের একটি মহল সচেতনভাবে চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

এ সময় তিনি দাবি করেন, এস আলম গ্রুপ ভারতে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। পরিকল্পনা হচ্ছে, কীভাবে ওই টাকা ব্যবহার করে বাংলাদেশে নির্বাচন বন্ধ করা যায় এবং শেখ হাসিনাকে আবার দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।

জটিলতা না বাড়িয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জুলাই সনদ প্রণয়নের কাজ শেষ করাসহ ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন মহাসচিব আবু ইউসুফ। বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু প্রমুখ।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *