আস্থায় বাংলা

প্রচলিত ধারায় নয়, সত্যই লক্ষ্য

রাজনীতি

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাঁচ দফা দাবিতে রাজশাহীর চারটি উপজেলায় পৃথকভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাগমারা, পুঠিয়া, মোহনপুর ও চারঘাট উপজেলায় দলটির নেতাকর্মীরা সমবেত হয়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব কর্মসূচি পালন করেন।

গোদাগাড়ী

পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি সহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও রাজশাহী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ মুজিবুর রহমান।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে চারটায় গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী মোড় থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ডাইংপাড়া বাজার প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়। হাজারো নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনতার অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি এবং পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। জনগণের দাবি বাস্তবায়ন করে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল খালেক, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক কামরুজ্জামান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ডা. মোঃ ওবায়দুল্লাহ। এ ছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী জেলা পশ্চিম শাখার সভাপতি মোঃ রেজওয়ানুল ইসলাম এবং জেলা প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সদস্য মোঃ শহীদুল্লাহ বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, “ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার ঠেকাতে জামায়াতের প্রস্তাবিত পাঁচ দফা বাস্তবায়ন অপরিহার্য। এতে দেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে।”

বাগমারা

বাগমারায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয় ভবানীগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাস্টার কামরুজ্জামান হারুন। প্রধান আলোচক ছিলেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা নায়েবে আমির ডা. আব্দুল বারী।

এছাড়া রাজশাহী জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাস্টার আব্দুল আহাদ কবিরাজ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম।

সমাবেশ শেষে গোডাউন মোড় থেকে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী যোগ দেন।

পুঠিয়া

পুঠিয়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন রাজশাহী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুজ্জামান লিটন।

তিনি বলেন, “জামায়াত দুর্নীতি ও জুলুম উৎখাত করে ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। জনগণের সমর্থনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হবে।”

বিকাল ৪টার দিকে বাগপাড়া ছাতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে তিনি শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ চালান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা শূরা সদস্য মাওলানা আহমদ উল্লাহ, উপজেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যাপক মনসুরুল হক মন্টু, সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা।

মোহনপুর

মোহনপুরে জামায়াত কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে থানার মোড়ে গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়।

উপজেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ জিএম আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে পথসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সূরা সদস্য ও ত্রাণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ।

এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির উপাধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন মৃধা, কেশরহাট পৌর আমির আব্দুল জলিল, ব্যবসায়ী নেতা শরিফুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।

চারঘাট

চারঘাট উপজেলায় বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে মডেল মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে সরদহ বাজার ও একাডেমি মসজিদ হয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আমির মাস্টার আবুল কালাম আজাদ। প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক।

বক্তারা অভিযোগ করেন, “২০০৮ সালের ১/১১ থেকে শুরু করে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন ফ্যাসিবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রের ফল। এবারও একদলীয় নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

তারা পাঁচ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান।

জামায়াতের পাঁচ দফা দাবি

১. জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন।
২. জাতীয় নির্বাচনে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি চালু।
৩. অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত।
৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় সংঘটিত জুলুম, নির্যাতন, দুর্নীতি ও গণহত্যার বিচার।
৫. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।

রাজশাহীর চারটি উপজেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত এসব বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন ছাড়া গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে না বলে মন্তব্য করেন।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *