
নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে উত্তাপ ছড়াচ্ছে বিএনপির অভ্যন্তরে। স্থানীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রার্থীর দাবিতে আগামী শনিবার (৮ নভেম্বর) চাটমোহরের বালুচর মাঠে বৃহত্তর সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির দুই হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশী।
বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাবেশ ঘিরে এলাকায় বেড়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা ও উত্তেজনা। সাবেক সংসদ সদস্য ও চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কে. এম. আনোয়ারুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিকেলে তার বাসভবনে দলের স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “শনিবারের সমাবেশে পাবনা-৩ আসনের প্রার্থীতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক পৌর মেয়র ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হাসাদুল ইসলাম হীরা বুধবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে একই সমাবেশের ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে আমরা হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। অথচ এবার একজন বহিরাগতকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যার এলাকায় জনসমর্থন নেই। স্থানীয় জনগণ এতে ক্ষুব্ধ।”
হীরা আরও বলেন, “বিএনপি নামধারী কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ওই বহিরাগত প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু তারা ভোটার নয়, ভোট দেবে এখানকার মানুষ। মাঠ জরিপ করলে দেখা যাবে, স্থানীয় জনপ্রিয় প্রার্থী ছাড়া এই আসনে জয়ের সম্ভাবনা নেই।”
তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখনও সময় আছে-স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দিন। বহিরাগত প্রার্থী দিলে শুধু এই আসন হারাব না, বরং অন্য দল এতে উৎসাহিত হবে।”
শনিবারের সমাবেশে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুরের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়ে হীরা বলেন, “সমাবেশ থেকে আমরা ঘোষণা দেব- এই এলাকার প্রার্থী চাই, বহিরাগত নয়।”




