
: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দল বা ৮ দলের বিজয় চান না, বরং চান বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিজয়। আগামীর বাংলাদেশ হবে “কুরআনের বাংলাদেশ” এবং চট্টগ্রাম থেকেই ইসলামের বিজয়ের সুর বেজে উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ঐতিহাসিক লালদীঘির ময়দানে ৮ দলের উদ্যোগে আয়োজিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত মানুষ স্বস্তিতে কথা বলতে পারেনি। জীবনের নিরাপত্তাহীনতা, অবিচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিল সাধারণ মানুষ। আওয়ামী লীগ উন্নয়নের নামে দেশে লুটপাট ও দুর্নীতিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, শাপলা চত্বরে অসংখ্য আলেমকে হত্যা করা হয়েছিল, পরে সরকার দাবি করেছিল—কেউ মারা যায়নি। মানুষের রক্ত নিয়ে উপহাস করা ছিল তাদের বৈশিষ্ট্য।
জামায়াত আমির আরও বলেন, আওয়ামী লীগ রক্তাক্ত হাতে ক্ষমতায় এসেছিল এবং রক্তাক্ত বিদায়ও নিয়েছে। ২০০৯ সালে পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ড দিয়ে তাদের শাসন শুরু হয়েছিল এবং ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে কাড়ি কাড়ি লাশ ফেলে তাদের পতন ঘটে।
তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনের পরও দেশে ফ্যাসিবাদের প্রভাব রয়ে গেছে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বন্ধ হয়নি; ক্ষমতায় না থাকলেও অনেকে প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করছে।
৮ দলের ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী দলগুলোর ঐক্য জাতীয় সংসদ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। প্রয়োজন হলে আবারও ৫ আগস্টের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক। জামায়াতসহ আট দল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও ৫ দফা দাবিতে বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করছে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট, জাতীয় সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, আওয়ামী লীগের গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার, আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের অপকর্মের সহযোগীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।




