
নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
শনিবার বিকেলে রাজশাহীর কেশরহাট পৌর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিলন বলেন, “পিআর পদ্ধতি একটি অবাস্তব ও অগণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়া। এ ব্যবস্থায় আপনি যাকে ভোট দেবেন, তিনিই নির্বাচিত হবেন না- এমন প্রহসনের নির্বাচন দেশে চায় জামায়াতে ইসলাম। তারাই এখন নমিনেশন দিচ্ছে, প্রচারণাও চালাচ্ছে।”
মিলন বলেন, “বিএনপি যখন নির্বাচনের রোডম্যাপের কথা বলে, তখন কিছু দলের গাত্রদাহ হয়। অথচ বিএনপি চারবার দেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেছে।”
তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা যুদ্ধের ভূমিকা স্মরণ করে বলেন, “শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই জিয়াউর রহমান থেমে থাকেননি, তিনি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে লাল-সবুজের পতাকা ছিনিয়ে এনেছেন, সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূখণ্ড। তিনিই প্রথম সংস্কার করে বাকশাল বাতিল করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন।”
আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের অতীত আচরণ তুলে ধরে মিলন বলেন, “১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে পরদিনই শেখ হাসিনা ও জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেন। অথচ লালদিঘীতে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এই সরকারের অধীনে যে নির্বাচন করবে সে জাতীয় বেইমান। আর জামায়াত বলেছিল, সে হবে মোনাফেক। তাহলে আজ বেইমান ও মোনাফেক কে, সেটি জনগণ জানে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা এখন বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তি করে, অথচ তারাই ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। জামায়াত কখনো বাংলাদেশের ভালো চায়নি, আজও চায় না। তারা ধর্মব্যবসা করে, তাই তাদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে।”
সমাবেশে মিলন বলেন, “দেশকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলার জন্য কেউ জীবন দেয়নি। বিএনপির লাখো নেতাকর্মী গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সবকিছুর বিনিময়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সরকারকে আহ্বান জানাই এবং সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানাই।”
তিনি বক্তব্যের শেষে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার লিফলেট বিতরণ করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেশরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জল, জেলা সদস্য শেখ মকবুল হোসেন, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আর রশিদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খুশবুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান লিটন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরফিন কনকসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।




