
: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভরাডুবিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভেতরে হতাশা বিরাজ করছে। শীর্ষ তিন পদসহ ৯টি সম্পাদকীয় পদে জয়ী হয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্যানেল। বাকি তিনটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। কোনো পদেই জয় পায়নি ছাত্রদল।
আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এ পরাজয়কে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বিএনপি। প্রকাশ্যে কিছু না বললেও ভেতরে ভেতরে কারণ অনুসন্ধান চলছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, সংগঠনটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ছিল না এবং ক্যাম্পাসও অনুকূল ছিল না। দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তা ও বিভক্তির কারণে প্রার্থীদের ব্যক্তি ইমেজের ওপর ভরসা করেই নির্বাচনে অংশ নেয়া হয়। শিক্ষক, নারী ভোটার ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ছিল না।
ছাত্রশিবির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গোপনে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন করেছে। ছাত্রদল তা টের পেলেও প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়। আবার কেন্দ্র থেকে নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালনে নিরুৎসাহিত করা হয়। অর্থনৈতিক দিক থেকেও ছাত্রদল প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে ছিল। প্রার্থীদের প্রচারণার জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়া হয়নি।
অনেক নেতা মনে করেন, বিএনপি ও ছাত্রদল পুরনো ধাঁচের রাজনীতিতে আটকে আছে। শিবির আধুনিক কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও ছাত্রদলের নেতৃত্ব সেই পরিবর্তন বুঝতে পারেনি। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসও বিপর্যয়ের কারণ। তারা ধারণা করেছিল, শিক্ষার্থীরা কোনো ইসলামী সংগঠনকে ভোট দেবে না- কিন্তু তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
ছাত্রদলের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডি শিবিরপন্থী হওয়ায় নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক সুবিধা পেয়েছে বিজয়ী প্যানেল। ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। সাদা দলের শিক্ষকদের সঠিকভাবে সম্পৃক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় ছাত্রদল কার্যকর সমর্থন পায়নি।
এই ভরাডুবি বিএনপির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।




