আস্থায় বাংলা

প্রচলিত ধারায় নয়, সত্যই লক্ষ্য

রাজনীতি

রাজশাহীতে বিএনপির টিকিট পাচ্ছেন কারা? – Padmatimes24

নিজস্ব প্রতিবেদক: এক সময় বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত ছিল রাজশাহী। ২০০১ সালের নির্বাচনে রাজশাহীর আসনগুলোতে চমক দেখিয়েছিল ধানের শীষ। ত্রয়োদশ নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তবে এখনও প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় দলে বিভাজন বাড়ছে। দ্বন্দ্ব সংঘাতে জর্জরিত হয়ে পড়ছে সংগঠন। এই সুযোগে জামায়াতের প্রার্থীরা মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছে।

রাজশাহীর প্রতিটি আসনেই বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হাফ ডজন থেকে ডজন খানেক পর্যন্ত। তারা নির্বাচনি এলাকায় নিজ নিজ বলয় তৈরি করে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। বিএনপির মাঠের নেতাকর্মীরা দলে দলে ভাগ হয়ে একেক প্রার্থীর পেছনে পেছনে ঘুরছেন। ফলে তৃণমূলে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে বিভক্তি-বিভাজন বাড়ছে। কোথাও কোথাও নিজেরাই জড়াচ্ছেন সংঘাত-সংঘর্ষে। ইতোমধ্যে রাজশাহী-১ আসনের তানোর উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন দুই নেতা। রাজশাহী-৫ আসনে একাধিক ঘটেছে সংঘাতের ঘটনা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে পরপর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক। তার ভাই মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন নিয়মিত গণসংযোগ করছেন এলাকায়। মনোনয়ন প্রত্যাশায় অন্যদের মধ্যে শিল্পপতি সুলতানুল ইসলাম তারেক, বিএনপির প্রবীন নেতা ইঞ্জিনিয়ার কেএম জুয়েল, সুপ্রিমকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন, বিএনপি নেতা সাজেদুর রহমান মার্কনি, অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বিপ্লব এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অধ্যাপক শাহাদৎ হোসেন শাহীন এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

নেতাকর্মীরা জানান, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাও বাড়ছে। এখন পর্যন্ত সাতজন মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নিজের জানান দিয়েছেন। এতে তৃণমূল বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

রাজশাহী-২ (মহানগর) আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত। কয়েক মাস ধরে মহানগরে বিএনপির কমিটি নেই। নগরীর সড়কদ্বীপে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যানার ফেস্টুন ফ্লেক্স চোখে পড়ে।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, এই আসনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর অনুসারীরা তাকে প্রার্থী করতে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) সৈয়দ শাহীন শওকত, মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশা ও সাবেক সদস্য সচিব মামুনুর রশিদও মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নগরীতে গণসংযোগ করছেন।

অন্যদিকে, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনটি নগরীর উপকণ্ঠের দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনেও বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী গণসংযোগ করছেন।

এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অন্যতম রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন। ২০১৮ সালে তিনি এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যরা হলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তোফাজ্জাল হোসেন তপু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্র নেতা রায়হানুল আলম রায়হান, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সামাদ, সাবেক ছাত্রনেতা ইকবাল হোসেন ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত কবীর হোসেনের ছেলে নাসির হোসেন অস্থির।

এদিকে, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর ভিড় সবচেয়ে বেশি। এলাকার দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে নেমেছেন পিতা-পুত্রসহ প্রায় এক ডজনেরও বেশি প্রার্থী।

তারা হলেন, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল গফুর, বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডিএম জিয়াউর রহমান, সদস্য সচিব অধ্যাপক কামাল হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জহুরুল আলম বাবু, সাবেক এমপি আব্দুল গফুরের ছেলে মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল ফারাবী, আমেরিকা প্রবাসী ড. জাহিদ দেওয়ান শামীম, রাজশাহী জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউল করিম টুটুল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সহ-সম্পাদক ডা. আশফাকুর রহমান শেলী, অ্যাডভোকেট মাহাফুজুর রহমান, সাবেক মন্ত্রী সরদার আমজাদ হোসেনের ছেলে সানিয়াত হোসেন শুভ, সুপ্রিমকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার সালেকুজ্জামান সাগর।

রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর-পুঠিয়া) আসনেও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর ছড়াছড়ি। এই আসনে বিভিন্ন মনোনয়ন প্রত্যাশীর অনুসারীরা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে মাঝে মাঝে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। এই আসনে মাঠে নেমেছেন বিএনপির হাফ ডজনের বেশি মনোনয়ন প্রত্যাশী।

তারা হলেন, পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক মাহমুদা হাবিবা, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, পুঠিয়া বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ইসফা খায়রুল হক, শিল্পপতি আব্দুস সাত্তার, এ আসনের সাবেক প্রয়াত সংসদ সদস্য নাদিম মোস্তফার ছেলে জুলকার নাঈম মোস্তফা, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যারিস্টার রেজাউল করীম, শ্রমিক দলনেতা রোকনুজ্জামান আলম ও সাবেক ছাত্র নেতা গোলাম মোস্তফা।

অপরদিকে, রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনেও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকা বেশ দীর্ঘ। এই আসনের অন্যতম প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ ২০১৮ সালেও দলের মনোনয়নে নির্বাচন করেছিলেন। এবারও তিনি এই আসনের অন্যতম ফেবারিট প্রার্থী।

মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যরা হলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বজলুর রহমান, বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান মানিক, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আমিনুল ইসলাম মিঠু ও মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফুল ইসলাম বিলাত।

জেলার ছয়টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড়ে দলের তৃণমূলে বিভক্তি-বিভাজন এড়াতে এই মুহূর্তে আপনাদের করণীয় কী- জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এসব বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই আমরা মেনে নেব। দল যাকেই যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেবে, নেতাকর্মীরা তার হয়ে কাজ করবেন- এমন মানসিকতা থাকা দরকার।’’

তিনি বলেন, ‘‘এই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে যে বিভাজনের কথা বলা হচ্ছে, তা সাময়িক। প্রার্থী ঘোষণা হয়ে গেলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন যাতে বিএনপি জিততে পারেন।’’

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘‘বিএনপিতে অনেক যোগ্য নেতৃত্ব আছেন। অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন। দল নিশ্চয়ই যোগ্য ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দেবে। মনোনয়ন ঘোষণা হওয়ার পর সব বিভাজন ভুলে সবাই এক সঙ্গে দলের জন্য কাজ করবে।’’

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *